শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
জন্মদিনে স্মরণ করি রবীন্দ্রনাথের জীবন দর্শন

জন্মদিনে স্মরণ করি রবীন্দ্রনাথের জীবন দর্শন

পাভেল আমান।।

দেড়শ’ বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও বাঙালি মানসে এখনো তিনি দিবাকরের মতো সমান সমুজ্জ্বল, তাঁর কিরণ আজো চির অম্লান। তিনি আজও সুখে দুঃখে, চিন্তনে ভাবনায়, স্মরণে বাঙালি মননে ছেয়ে আছেন। বাঙালি সাহিত্য, সংস্কৃতি, জাতি আবেগ, আবহমান ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। বাংলা ভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতি কে দেশ কালের গণ্ডি পার করে আন্তর্জাতিক আঙিনায় সসম্মানে সম্মানিত করেছিলেন আমাদের সকলের প্রিয় রবীন্দ্রনাথ। এক কথায় বাঙালি চেতনা, জাগরণের যথার্থ বাতিঘর হিসেবে তিনি প্রতিভূ।আজও কবিগুরুর সাহিত্য সম্ভার গান ও কবিতা বাঙালির অনুপ্রেরণা ও নতুন আশার বাণী। বাঙালি বেঁচে থাকার চিরায়ত অবলম্বন রবীন্দ্রনাথের জীবন দর্শন ও সৃষ্টি সম্ভার।বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান সবার উপরে। মূলত: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের প্রতিটি মূহূর্তকে যেমন উপভোগ করেছেন, তেমনি তাঁর সৃষ্টিশীল রচনা আমাদের চলমান জীবনে এক অমিত শক্তির রসদ। বাঙালি মনন কিংবা চিন্তার জগতের সূক্ষ্ম অনুভূতিকে যে ক’জন কবি-সাহিত্যিক শক্তভাবে নাড়া দিতে পেরেছিলেন রবীন্দ্রনাথ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস বাংলা ভাষায় তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম। আজ যখন সমগ্র জাতি বিমর্ষ, মৃত্যু আতঙ্ক যখন বাঙালি তথা বিশ্বের প্রতিটি মানুষের অন্তরে, তখন সেই মৃত্যুকে জয় করবার সাহসটুকুর জন্যই কবিগুরুকে দরকার। দরকার রবীন্দ্রনাথের লেখা, দর্শন, চিন্তাচেতনা, আলোকছটার ঔজ্জ্বল্য-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বিভিন্ন লেখায় সৃষ্টি দিয়ে মৃত্যুকে জয় করার কথা বলেছেন।মৃত্যুঞ্জয় কবিতায় তিনি লিখেছেন, যত বড়ো হও, তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড়ো নও, আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো এই শেষ কথা বলে, যাব আমি চলে।আরেক জায়গায় তিনি লিখেছেন, মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের মূল্য দিতে হয়/সে প্রাণ অমৃতলোকে/মৃত্যুকে করে জয়।আজ যখন সমগ্র জাতি বিমর্ষ, মৃত্যু আতঙ্ক যখন বাঙালি তথা বিশ্বের প্রতিটি মানুষের অন্তরে, তখন সেই মৃত্যুকে জয় করবার সাহসটুকুর জন্যই কবিগুরুকে দরকার। দরকার রবীন্দ্রনাথের লেখা, দর্শন, চিন্তাচেতনা, আলোকছটার ঔজ্জ্বল্য-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বিভিন্ন লেখায় সৃষ্টি দিয়ে মৃত্যুকে জয় করার কথা বলেছেন।আজ ২৫শে বৈশাখ, আপামর বাঙালির ‘বাঙালিয়ানা দিবস’। আজ থেকে ১৬০ বছর পূর্বে বঙ্গের ঊর্বর ভূমিতে জন্মেছিলেন এক মহামনীষী, নাম তাঁর রবীন্দ্রনাথ।বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের মন্ত্রকে রবীন্দ্রনাথের মতো গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে খুব বেশি লোক দেখেননি। আজ যেভাবে হিন্দু রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে সারা দেশের মানুষকে একই সাংস্কৃতিক ধাঁচে ফেলে দেওয়ার জোর প্রকল্প চলছে, জয় শ্রীরাম স্লোগান নিয়ে প্রবল বাগ্বিতণ্ডা চলছে যেখানে দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে বিশেষ হেলদোল নেই শাসকের সেখানে রবীন্দ্রনাথের কথাগুলি কানে আরও বেশি করে বাজে। আমরা আমাদের বৈচিত্র্যের শক্তিকে সম্বল করে যেখানে আরও বেশি কৃতিত্বের দিকে এগোতে পারি, সেখানে দেশের মধ্যেই জাতীয়তাবাদী জিগির তুলে বিভাজন সৃষ্টি করে আমরা কী প্রমান করতে চাইছি?রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মানবিকতার পূজারী, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মূর্ত প্রতীক ,সৌন্দর্যের সেবক। নিজের প্রিয় জন্মভূমির মাটিতে আজকে যে রাজনৈতিক-সামাজিক আবহ তৈরী হয়েছে, তা দেখে তিনি কতটা কষ্ট পেতেন, সেকথা আমাদের কল্পনারও অতীত। আন্তর্জাতিক মননের মানুষটি আজকের এই সংকীর্ণতা, স্বার্থপরতা দেখলে নিঃসন্দেহে গর্জে উঠতেন তাঁর লেখনীর দ্বারা, যেমনটি উঠেছিলেন একসময়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে; কিন্তু তিনি যেহেতু আজ আর আমাদের মধ্যে নেই, তাই তাঁর দেখিয়ে যাওয়া শিক্ষা ও পথই আমাদের পাথেয়, আজকের এই অস্থির সময়ে।তার প্রচারিত অমর বাণীতে মৃত্যুঞ্জয়ী হতেই তো, আমাদের কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।দিক্ষিত হয়েই ভয়কে জয় করতে হবে।তবেই মুছে যাবে গ্লানি, ঘুচে যাবে জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হবে ধরা। পৃথিবীতে ফিরে আসবে শান্তি, স্থিতিশীলতা সম্প্রীতির বাতাবরণ। কেটে যাবে অতিমারির সংকট কাল। তবেই রবির আলোয় উদ্ভাসিত হবে ২৫ বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০তম জন্মজয়ন্তী। শিল্প-সাহিত্যে নয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ আমাদের সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে। বাঙালির চিন্তায় চেতনায়, মননে এককথায় সমগ্রতায় উগরে এখনো তার সদর্প অবস্থান। করোনা সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউয়ে মানবতা যখন চরম বিপর্যস্ত, দিশেহারা, শঙ্কিত ঠিক সেই সময়ে আমাদের সংকটের হাত থেকে বেঁচে থাকার উত্তরণ ও অবলম্বন হতে পারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শ ও জীবন দর্শন।

পাভেল আমান
-হরিহর পাড়া -মুর্শিদাবাদ

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD